পাঁচ হাজার বছর আগে মৎস্য দেশের রাজা বিরাটের রাজধানী গাইবান্ধা
Rafa Noman
আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর, ১২, ২০২৫, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
পাঠক পড়েছে || ৭৮
প্রথাগত জীবনে সব উল্টে গেছে। কিছুই ভালো লাগে না আজকাল। শিকারীর মত অভিনয় করে যাচ্ছি সবাই। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারি না। অহংকার আর হিংসা তে অসহ্য হয়ে গেছে দুনিয়াটা । তবু এই গ্রামীণ জনপদে অহংকার কিঞ্চিৎ কম। এখানে শহরের মতো কংক্রিটের মন হয়ে উঠেনি এখনো।
গাইবান্ধার পাড়াগাঁয়ের মেঠোপথে ছোট বেলার মাছ গাড়ি
আমার এখন শুধু বৈরাগি হয়ে পাড়াগাঁয়ের পথে প্রান্তরে চলে যেতে ইচ্ছে করে। যেখানে মোরগের ডাকে, মুয়াজ্জিনের আজানের সুরে ভোর হবে। কৃষকরা ভোরের আলো ফুটার পর গরু আর লাঙল নিয়ে নদীর তীর ধরে ফসলের মাঠে যায়। বর্ষার মৌসুমে নৌকা আর জাল নিয়ে মাছ ধরতে বের হয় । শীতে জবুথবু হয়ে নদী খাল বিলে মাছ ধরে। সন্ধ্যায় কোন এক চায়ের দোকানে পানেরতালা আর চায়ের কাপ নিয়ে দিন দুনিয়ার সহজ সরল গফসফ করে বাড়ি ফিরে ভাত খেয়ে ঘুম দেয়।
যমুনায় মাছ ধরা
এইরকম জায়গা পাওয়া কিছুটা দুস্কর। আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে চেষ্টা করলে পাওয়া যায়। এইরকম জায়গা খোঁজার জন্য এবার আমার যাত্রা গাইবান্ধা জেলায়।
মাছ ধরা
কথিত আছে আজ থেকে প্রায় ৫২০০ বছর আগে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় বিরাট রাজার রাজধানী ছিল। বিরাট রাজার প্রায় ৬০ (ষাট) হাজার গাভী ছিল। সেই গাভী বাধার স্থান হিসাবে গাইবান্ধা নামটি এসেছে বলে জানা যায়। ১৯৮৪ ইং সালের ১৫ আগস্ট গাইবান্ধা জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
তখন জনপদে ভ্যানে করে পান সুপারি মুড়ি মুড়কি বিক্রি হয়
ঢাকা থেকে গাইবান্ধা যাওয়ার প্রধান মাধ্যম বাস আর ট্রেন।কল্যানপুর ও গাবতলী থেকে বেশ কিছু বাস যায়। কমলাপুর থেকে লালমনি এক্সপ্রেস আর রংপুর এক্সপ্রেস যায় গাইবান্ধা।
আমিও দেখছিলাম পারি কি না
করছি ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার গাইবান্ধা যাওয়া হয়েছে। কয়েকটি মেডিক্যাল ক্যাম্প, রিসার্চ প্রোগ্রাম সহ বেশ কিছু কাজে। যতবারই যাওয়া হয়েছে গাইবান্ধা সদরে জেলা পরিষদ ডাক-বাংলো থেকেছি। ডাক বাংলোটা বেশ সাজানো ফুলের বাগান দিয়ে চারদিক একদম মনোরম পরিবেশ।গাইবান্ধা জেলা শহর খুবই ছোট ও ছিমছাম।
গাইবান্ধা ডাকবাংলো
মেডিক্যাল ক্যাম্প আর রির্সাচের কাজে প্রায় সবগুলো উপজেলা ও ইউনিয়নে যাওয়া হয়েছে,বেশ কিছু চরেও। রংপুর আর গাইবান্ধা দিকটায় গ্রামগুলোতে এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া সেভাবে লাগেনি ।মানুষগুলোর মন এখনো পাথুরে হয় নি। এখনো গ্রামগুলোতে মোরগের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে। সকালে যমুনা, ঘাঘট ও বাঙাল নদী ধরে চাষ করতে যায়। একবার সাপের চর নামে এক চর থেকে মেডিক্যাল ক্যাম্প করে ফিরছিলাম সেদিন একটু রাত হয়ে গিয়েছিল। খোলা ট্রলারে করে ফিরছি হঠাৎ আকাশের দিকে তাকাতেই ভিরমি খাওয়ার অবস্থা, আকাশে এতো তারা ট্রলারে থাকা কেউই কোন দিন দেখে নি। চরের পাশে দূষণ কম থাকায় আকাশ এতো পরিস্কার ছিল তখন। আর এখন আমরা দূষণ এর উপরই বেঁচে আছি।
যমুনা ও ব্রম্মপুত্র প্রচুর ভাঙে
গাইবান্ধায় রসমালাই বেশ বিখ্যাত এখানের প্রকৃতির মতই জুইতের রসমালাই। ডাকবাংলোর আশেপাশেই বেশ কিছু দোকানে পাবেন। বেশ পুরনো সব দোকান। ডাকবাংলো থেকে আমাদের প্রথম যাত্রা বালাসী ঘাট।
এক চর থেকে অন্য চরে যাত্রার একমাত্র মাধ্যম নৌকা
কল্পনা করুন একটা পুরো ট্রেন যাচ্ছে ফেরীতে করে তাও বাংলাদেশে। এইটা এখনকার অনেক মানুষজন বিশ্বাস করে না। শত প্রমাণ দিলেও অনেকেই বিশ্বাস করতে চায় না ফেরী দিয়ে ট্রেন পারাপার করার কথা। এক সময় এই বালাসী ঘাট দিয়ে বাংলাদেশের একমাত্র রেলওয়ে ফেরি চলাচল করত। পুরো একটি ট্রেন নদী পার হতো বিশ্বের অন্যতম এই রেল ফেরিতে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৩৮ সালে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ ঘাটে রেল ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। তৎকালীন ইংরেজরা গাইবান্ধা জেলাকে ফুলছড়ি ঘাটের নামে জানত। ১৯৯০ সালের পর যমুনা নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় ফেরি সার্ভিসটি তিস্তামুখ ঘাট থেকে সরিয়ে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়ার বালাসী নামক জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। আর তখন থেকেই ঘাটটি বালাসী ঘাট নামে পরিচিত হয়ে উঠে।
ট্রেন ফেরী
বালাসী ঘাট গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত একটি নৌবন্দর এবং দর্শনীয় স্থান। গাইবান্ধা শহর থেকে বালাসী ঘাটের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। বর্ষায় নদী পানিতে ভরে থাকলেও শীতকালে এখানে বালুর চর ভেসে উঠে। বর্তমানে বালাসী ঘাটের চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য প্রায় প্রতিদিনই ভ্রমণপিয়াসু মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে। বর্ষায় নদীর উত্তাল ঢেউ, নির্মল বাতাস আর নৈসর্গিক প্রকৃতি আগত দর্শনার্থীদের মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। শীতে যমুনায় জেগে উঠা ধূ ধূ বালুচরে ঘোড়ায় চড়,কম পানিতে নৌকা ভ্রমণ কিংবা রেলওয়ের ফেরি থেকে নদীর বুকে সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।
বালাসী ঘাটারে পাশেই পরিত্যক্ত জালে গুই সাপ আটকে গেছিলো নদী পাড়ের এক মহিলা সেটা কে অবমুক্ত করছেন
বালাসী ঘাটে ঘুরতে যাবার উপযুক্ত সময় বিকেলে। তবে যদি একদিনে ঘুরতে চান তাহলে সকালে শুরু করতে পারেন বালাসী ঘাট থেকে। বালাসী ঘাট থেকে আমাদের পরের যাত্রা ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার গাইবান্ধা বালাসী ঘাট রোডেই অবস্থান ঘাট থেকে ফেরার পথে এখানে উঠে আসতে পারেন। যদিও অনুমতি নিয়ে যেতে হয়।
দুপুরে নদীর পাশে বাজারের খাবার।
ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে নানাবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়।২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর গাইবান্ধা-বালাসী সড়ক ঘেঁষে নির্মিত ব্যতিক্রমী এই স্থাপনাটিতে বিভিন্ন দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা ছাড়াও রয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, খেলাধুলা, লাইব্রেরি এবং থাকা-খাওয়ার আয়োজন। প্রায় ৮ বিঘা জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা এই ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটিতে বিষমুক্ত সবজি চাষের জমি এবং ঔষধি গাছের বাগান।
সম্পূর্ণ মাটির নিচে অবস্থিত এই ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার তার নান্দনিক নির্মাণশৈলীর জন্য ইতিমধ্যে দেশ বিদেশের বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে। মহাস্থানগড় বৌদ্ধ বিহারের অনুপ্রেরণায় নির্মিত ভবনের স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরী। ভূমি সমতলে ভবনের ছাদের অবস্থান, আর ছাদের ওপর শোভাবর্ধন করে আছে চোখ জুড়ানো সবুজ ঘাস।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর
সবুজ ঘাসে ঢাকা ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের কক্ষগুলো প্রাকৃতিকভাবে বেশ ঠান্ডা থাকে। আর কক্ষগুলোতে সঠিকভাবে প্রাকৃতিক আলোর প্রবেশের জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক ভেন্টিলেসন ব্যবস্থা। বিভিন্ন সভা-সেমিনার আয়োজনের জন্য এই অপূর্ব স্থাপনা’টি ভাড়া দেওয়া হয়।
সাগাটায় মেডিক্যাল ক্যাম্প শেষে
গাইবান্ধা সদরে ফিরে শহরের কাছাকাছিই এসকে এস ইন রিসোর্টে যেতে পারেন। উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম রিসোর্ট প্রায় ৬০ বিঘা জায়গা জুড়ে অবস্থিত এ রিসোর্ট। এসকেএস ইন্-এ রয়েছে ওয়াটার ভিলা, গার্ডেন ভিউ ভিলা, ফ্যামিলি ভিলা, লেক ফ্রন্ট ভিলা। যেখানে স্বাচ্ছন্দে রাত্রী যাপন করা যায়। বিশাল সুইমিংপুল, বোটিং, সাইকেলিং, ফিশিং, জিমনেশিয়াম, স্টিম বাথ, ঝুলন্ত ব্রিজ, চিল্ড্রেন জোন। প্রায় সন্ধ্যায় লাইভ বাউল গান, মিনি চিড়িয়াখানা, ২৪/৭ রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, ইনডোর গেমস, লন্ড্রি সুবিধাসহ বেশ আয়োজন করে করা রিসোর্ট।
এসকে এস ইন্ ( ছবিটা ওদের পেজ থেকে নেয়া)
রিসোর্ট থেকে ফিরে শহরে পৌঁছে পার্কে সময় কাটাতে পারেন।
মূলত শহরের মানুষদের জন্য ১৯২৭ সালে জমিদার গোবিন্দ লাল রায় একটি দিঘী খনন করেন সেই দিঘী ঘিরে এই পার্ক। বিভিন্ন ফুল, ফল ও বনজ গাছ দিঘীর মাঝে ফোয়ারা পাশে সান বাধানো ঘাটে মানুষ বসে সময় পার করে। দুপুরে গাইবান্ধা শহরে খেতে পারেন। খাবারের দাম এখনো বেশ কম।
গাইবান্ধা শহর থেকে আমাদের পরের যাত্রা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা। ঘন্টাখানেকের পথ গোবিন্দগঞ্জ । প্রশাসনিক ভাবে বেশ গুরত্ব এই উপজেলার।ঢাকা -রংপুর মহাসড়ক গোবিন্দগঞ্জ এর বুক ছিড়ে চলে গেছে। ঐতিহ্যবাহী রংপুর চিনিকল গোবিন্দগঞ্জ এর মহিমাগঞ্জে অবস্থিত।
রংপুর সুগার মিল
আমরা রংপুর চিনিকলেই যাবো এখন। গোবিন্দগঞ্জ থেকে ৩০ মিনিটের পথ,মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে রংপুর চিনিকল। ১৯৫৪ সালে এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৯৫৭ সালে সমাপ্ত হয় এবং ১৯৫৭-৫৮ সাল থেকে এটিতে চিনি উৎপাদন শুরু হয়। স্বাধীনতা লাভের পর, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার এই প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে।চিনিকলটির মালিকানাধীন সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারের ১ হাজার ৮৪২ জমির মধ্যে ৪৫০ একর জমি রংপুর ইপিজেড নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এই বৃহদায়তন শিল্প-কমপ্লেক্সটি চিনি কারখানা, বাণিজ্যিক খামার ও জৈব সার কারখানা এবং অফিস ও আবাসন ভবনের সমন্বয়ে গঠিত। এই মিলের দৈনিক আখ মাড়াই করার ক্ষমতা ১,৫০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক উৎপাদনের ক্ষমতা ১৫,০০০ মেট্রিক টন।
বর্ধনকুঠি জমিদার বাড়ি
আমাদের উদাসিনতার জন্য এই চিনিকল আজ বন্ধ। বাংলাদেশে এতো এতো চিনিকল বেশিরভাগ বন্ধ আর দাম দিয়ে চিনি আমদানী করতে হয়। আমরা সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছি। মহিমাগঞ্জ থেকে গোবিন্দগঞ্জ সদরে ফিরে গোবিন্দগঞ্জ সরকারি কলেজে আমাদের দিনের শেষ যাত্রা। কলেজ প্রাঙ্গণে একটি পুরোনো জমিদার বাড়ি বর্ধনকুঠি সেটাই গন্তব্য। গোবিন্দগঞ্জ থেকে চাইলে ঢাকার বাস ধরা যায়।
বর্ধনকুঠি জমিদার বাড়ি
বর্ধনকুঠি তৎকালীন রাজা বাদশাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিট ছিল। ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে এখানে রাজা রামপাল বাসুদেব মন্দির নির্মাণ করেন। তখন রাজা মানসিংহ বাংলার সুবাহদার ছিলেন। ইংরেজ আমলে তা জমিদার বাড়ি হিসেবে খ্যাতি প্রায়। পুরাকালে পুন্ড্র বর্ধন, মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালের বরেন্দ্র এবং আজকের বাংলাদেশ উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা জেলার ইতিহাস প্রাচীন ঐতিহ্যের অনেক কিছু হারাতে বসেছে। নজির হিসেবে বিধ্বস্ত বর্ধনকুঠির স্মৃতিচিহ্ন।
বাঙাল নদী
কয়েকবছর আগে এক বন্যায় গাইবান্ধা ছিলাম মেডিক্যাল ক্যাম্প নিয়ে সেখানকার গল্প দিয়ে শেষ করছি।
বন্যার পানিতে সব ডুবে গেছে যমুনা পাড়ের মানুষের। বাঁধের উপর ছোট ছোট পাটখড়ি দিয়ে ঘর তুলে কোনমতে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে মানুষগুলির ঘুম নেই খাওয়া নেই। আমরা বাঁধ ধরে হাঁটছি জায়গা খুঁজতেছি পরদিন মেডিক্যাল ক্যাম্প করবো। এদিকটা বেশ অবহেলিত জায়গা ত্রাণ খুব বেশি আসে না। এমন একটা জায়গা খুঁজতেছিলাম যেখানে পুরো বাঁধের মানুষজন মেডিক্যাল ক্যাম্পে আসতে পারবে।বেশি কিছু দূর হাটাঁর পর একটা স্কুল পেলাম যেখানে ক্যাম্প করতে পারবো। পরদিন ক্যাম্পের সব কিছু ঠিক করে ফেরার পথে দুপুর গড়িয়েছে। বেশ খিদাও পেটে অনুভব হচ্ছে।
ব্রম্মপুত্র নদ
এমন সময় নাকে শুটকির তরকারির ঘ্রাণ আসছে।লোভ সামলাতে না পেরে আমরা উঁকি দিলাম। ছোট একটা ঝুপড়ির সামনে এক মা কচুর লতি আর ছোট মাছের শুটকি দিয়ে তরকারি রান্না করছে । আমাদের অসহায় মুখ দেখে উনি বুঝতে পেরেছেন আমরা বেশ ক্ষুধার্ত। তিনি আমাদের জোড় করে একটা বাটি তে অল্প ভাত আর তরকারি দিলেন খাওয়ার জন্য। আমরা না করার পরও দিলেন জোড় করে। খুব তৃপ্তি সহকারে চার জন এক প্লেট ভাত খেলাম গোগ্রাসে আমরা আপসোস করছিলাম খাবার শেষ করে ফেললাম কি না। শুনে উনি বলেন বাবাগো আমরা চরের মানুষ উজানের মানুষ থেকে মন বড়।
যমুনা নদী
আহারে কি দরদ দিয়া কথটা বললেন।এমন দরদ আমাদের শহুরে মানুষের নাই কেন?
বর্ষায় যমুনায় সূর্যাস্ত
বিঃদ্রঃ ঘুরতে গিয়ে কোথাও ময়লা ফেলবেন না এবং স্থানীয়দের সাথে ভালো ব্যবহার করুন
আগস্ট ২০১৮
{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.singularReviewCountLabel }}
{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.pluralReviewCountLabel }}
{{ options.labels.newReviewButton }}
{{ userData.canReview.message }}
Hi, I'm Saiful Islam
Welcome to my world of exploration! I’m a passionate travel blogger from Bangladesh, dedicated to showcasing the incredible beauty and rich culture of my homeland.






















