বিশ্ব ঐত্যিহের বাগেরহাট

Rafa Noman

রাত বাড়তে থাকার সাথে সাথে কাওরান বাজার প্রাণ খুঁজে পেতে শুরু করে। ঢাকায় প্রথম যাওয়ার পর প্রায় সময় কাওরান বাজারে যেতাম রাত দেখার জন্য।  যেখানে রাত বাড়লে বাড়ে রাতের নির্জনতা , থেমে যায় মেটে পোকার একটানা ডাক। পাশের বস্তির ডেরার ভেতর কূপির আলোয়  দুই হাঁটুর ফাঁকে মাথা গুজে কাঁই হয়ে ঘুমে পড়ে থাকে একজন দিনমুজুর, আচমকা বাতাসে ডেরার চাল কেঁপে উঠে।

অন্যদিকে কাওরান বাজারে রাত বাড়লে ঠিক তার উল্টো ঘটে । মেটে পোকারা এখানে দিনে ঘুমায় কিংবা সন্ধ্যা রাতে । ভারী ভারী চাকা ওয়ালা গাড়ির কর্কশ হর্নের শব্দ আর সবজি, মাছের আড়তে ছয়শো দশ, ছয়শো  বিশ, ছয়শো ত্রিশ করে বাড়তে থাকা পাইকারি দরদামের শোরগোল যেন মেটে পোকা আর সারি সারি পিঁপড়ার দল কে ঘুমাতে দেয় না।

ষাট গম্বুজ মসজিদ
ষাট গম্বুজ মসজিদ

আমি বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছি তেজগাঁও রেল লাইনের পাশে থাকা দিন মুজুরের সাথে মাথা গুজে কাঁই হয়ে ঘুমাতে, কিন্তু পারি নি। আমার শরীরের অহংকারের শক্ত মেধের প্রাচীর আমাকে নরম বিছনা ছাড়া ঘুমাতে দেয় না, দেয় না শেষ রাতে রেল লাইন দিয়ে বিকট চিৎকার করে চলে যাওয়া ট্রেনের আওয়াজকে উপেক্ষা করে ঘুমাতে। প্রকৃতি বার বার জানান দেয় আমি এখনো কাওরান বাজার কিংবা তেজগাঁও থাকার যোগ্য নই। আমাকে দিয়ে এই প্রকৃতির কোন উপকার হবে না। শুধুই অহংকারের শক্ত মেধের প্রাচীর নিয়ে অহেতুক সময় নষ্ট করা।

ষাট গম্বুজ মসজিদ
ষাট গম্বুজ মসজিদ

মাঝে মাঝে এসব ভাবনা দূর করতে কাওরান বাজার আর তেজাগাঁও থেকে পালিয়ে যাই। এবার আমাদের সাগর ভাইয়ের বিয়েকে পুঁজি করে আমি আর  মিল্টন ভাই খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলায় ঘুরার সুযোগ পেলাম। বিভাগের শেষ জেলা হিসেবে আমরা বাগেরহাট দিয়ে যাত্রা শুরু করছি। আমরা যশোর থেকে বাগেরহাট যাচ্ছি বাসে করে। ঢাকা থেকে সরাসরি বাস কিংবা ট্রেনে খুলনা এবং খুলনা থেকে সিএনজি বা লোকাল বাসে করে বাগেরহাট যাওয়া যায় ।

সুন্দরবন
সুন্দরবন

বাগেরহাটের নিকটবর্তী সুন্দরবন থাকায় এলাকাটিতে বাঘের উপদ্রব ছিল। এজন্য এই এলাকার নাম হয়তো ‘বাঘেরহাট’ হয়েছিল এবং ক্রমান্বয়ে তা বাগেরহাট-এ রূপান্তরিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতটি হচ্ছে, শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ভৈরব নদ। এই নদের উত্তর দিকের হাঁড়িখালী থেকে বর্তমান নাগের বাজার পর্যন্ত যে লম্বা বাঁক অবস্থিত, আগে সে বাঁকে পুরাতন বাজার এলাকায় একটি হাট বসতো। আর এই হাটের নামে এ স্থানটির নাম হয় বাঁকেরহাট। কালক্রমে বাঁকেরহাট পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়িয়েছে বাগেরহাট নামে।

সুন্দরবন
সুন্দরবন

বাসে করে আসতে আসতে দেখলাম বেশ সবুজ ঘন গাছপালা দিয়ে ভরপুর চারদিক। আসতে আসতে চোখে পড়লো বিখ্যাত ভিক্ষুক মুক্ত ফকিরহাট উপজেলা, যদিও জানি না এখানে ভিক্ষুক আছে কি না। বাগেরহাট  সুন্দরবন পাশে থাকায়  সুন্দরবন ঘুরতে চাইলে একদিনে সম্ভব নয়। মিল্টন  ভাইয়ের বন্ধু মোংলা পোর্টে চাকরি করে, আমরা রাতে সেখানেই থাকবো তার আগেই বাগেরহাটের আশেপাশে প্রচুর ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে সেগুলো ঘুরে দেখবো। বাগেরহাট মূলত বিশ্ব এতিহ্যের অংশ।  একসাথে এতো পরিমাণ বিশ্ব এতিহ্য অন্য কোন জেলায় আছে  কি না  আমার জানা নেই।

ঘোড়া দিঘি
ঘোড়া দিঘি

বাগেরহাট জেলা সদরে পৌঁছে বাস স্ট্যান্ডে নেমে সকালে নাস্তা সেরে আমাদের প্রথম গন্তব্য  খান জাহান আলীর বিখ্যাত ষাট গম্বুজ মসজিদ। কেউ দুই দিনের জন্য আসলে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের আশেপাশে কিংবা দশ আনী মোড়র কাছে বেশ কিছু হোটেল আছে সেখানে থাকতে পারেন । অথবা সরকারি ডাক বাংলো গুলোতে থাকতে পারেন।  ঐতিহ্যে ভরপুর বাগেরহাট জেলার পড়তে পড়তে দর্শনীয় স্থান। বাস টার্মিনাল থেকে লোকাল  সিএনজি করে চলে যেতে পারেন ষাট গম্বুজ মসজিদে ।

ষাট গম্বুজ মসজিদ
ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মান  হয় পনের শতকের ও আগে সুলতান নসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়। এ মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিল। পাথরগুলো আনা হয়েছিল ভারতের রাজমহল থেকে। তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট।

 মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও এর গম্বুজের সংখ্যা আসলে ৭৭টি। মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে। ভেতরে দৃশ্য বেশ মনোরম।  খুলনা অঞ্চলের সব থেকে বড় ঈদের জামাত হয় এখানে।  মসজিদের পিছনের বিশাল পুকুর খনন করা হয়াছিল সাধু পানির জন্য। পুকুরটি ঘোড়া দিঘি নামে ডাকে অনেকে, পুকুরের চারপাশ ঘিরে বসার বেঞ্চ করা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য।

ষাট গম্বুজ মসজিদ
ষাট গম্বুজ মসজিদ

মসজিদ কমপ্লেক্স গেট দিয়ে ডুকতেই চোখে পরবে জাদুঘর। ২০ টাকা টিকিট দিয়ে পুরো কমপ্লেক্স ঘুরা যায়। প্রতি সপ্তাহের রবিবার বন্ধ থাকে জাদুঘরটি। পনের শতকের  ইসালামি সংস্কৃতির অনেক নিদর্শন পাওয়া যায় জাদুঘরটিতে। এছাড়াও খান জাহান আলীর ঐতিহাসিক কুমিরের মমি এই জাদুঘরের বিশেষ আকর্ষন।

এক গুম্বুজ মসজিদ
এক গুম্বুজ মসজিদ

ষাট গুম্বুজ মসজিদ থেকে বের হয়ে মূল সড়ক পার হলেই  একটু ভিতরে আরেকটা  মসজিদ আছে  যাকে সিংগাইর মসজিদ বলা হয়। মসজিদটির একটা মাত্র গম্বুজ । এটাও পনের শতকে খান জাহান আলী নির্মাণ করান। অনেকে মনে করেন  ষাট গম্বুজ মসজিদ তৈরির করার সময়  নামাজ পড়ার জন্য এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সিংগাইর মসজিদ থেকে বের হয়ে অটো ভ্যান বা রিকশায় কিংবা সময় থাকলে হেঁটেও যেতে পারেন খান জাহান আলীর মাজারে।

খান জাহান আলীর মাজার
খান জাহান আলীর মাজার

খান জাহান আলী ছিলেন ১৫শ শতকের একজন বিখ্যাত মুসলিম সুফি সাধক ও তুর্কি বংশোদ্ভূত শাসক, যিনি বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে বাগেরহাট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার এবং জনহিতকর কাজে অনন্য অবদান রাখেন। ধারণা করা হয়, তিনি হযরত খান জাহান আলী নামে দিল্লির সুলতানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে বাংলায় আসেন।

এখানে এসে তিনি সুন্দরবনের প্রান্তবর্তী অঞ্চলকে পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে জনবসতির উপযোগী করে তোলেন। তিনি শুধু একজন ধর্মপ্রচারকই ছিলেন না বরং ছিলেন একাধারে প্রকৌশলী, সমাজ সংস্কারক ও দানশীল শাসক। ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি প্রায় ৩৬০টি দিঘি ও ৩৬০টি মসজিদ নির্মাণ করেন। এসব কাজের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেন এবং  ইসলামের শান্তিপূর্ণ বাণী ছড়িয়ে দেন।

খান জাহান আলীর মাজার
খান জাহান আলীর মাজার

খান জাহান আলীর মৃত্যুর পর তাঁর সমাধি গড়ে ওঠে বাগেরহাট শহরের খাঞ্জা নগরে। লাল ইটের তৈরি এই মাজারটি একটি অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন, যার গম্বুজ, খিলান ও দেয়ালের অলংকরণ সেই সময়ের মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় বহন করে। মাজার প্রাঙ্গণ শান্ত, সুশৃঙ্খল এবং সব ধর্মের মানুষের কাছে একরকম বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার স্থান। প্রচুর ভক্ত আসেন মানত নিয়ে মনের আশা পূরনে জন্য। পনের শতকে খান জাহান আলী মারা যাবার পর কিভাবে ধীরে ধীরে এটা মাজারে পরিনত হলো তা বলা মুসকিল।

খাঞ্জেলি দিঘি ও কুমির
খাঞ্জেলি দিঘি ও কুমির
মাজারের পেছনে রয়েছে একটি বিশাল আকৃতির পুকুর, যার নাম খাঞ্জেলি দিঘি। কথিত আছে, এই দিঘিটি নিজ হাতে খনন করেছিলেন খান জাহান আলী, যাতে স্থানীয় জনগণের পানির কষ্ট লাঘব হয়। তবে এই পুকুর সবচেয়ে বেশি পরিচিত এখানকার কুমির’দের জন্য।

এই কুমিরদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল “কালাপাহাড়” ও “দলা মাহমুদ”নামের দুটি কুমির, যাদের ডাক দিলে তারা পানির নিচ থেকে উঠে আসত।

খাঞ্জেলি দিঘি ও কুমির
মিল্টন ভাইকে জোর করে দোয়া নিচ্ছে

কারও মতে, তারা শত বছরের পুরনো; আবার কারও মতে, এগুলো সাধারণ কুমির নয় সয়ং খান জাহান আলী কুমিরের পিঠে চড়ে আসেন বাগেরহাট।  আবার তাদের ‘পবিত্র প্রহরী’বলা হয়। আজও এখানে কুমির দেখা যায়, যদিও তাদের সংখ্যা কমে এসেছে। স্থানীয়ভাবে এই বিশ্বাস, এই কুমিরদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি দেখালে মনের বাসনা পূরণ হয়।  এসব কুমিরকে মাজারের খাদেমরা নাম ধরে ডাক দিলে কাছে চলে আসে । দর্শনার্থীরা মুরগি, মাংস বা অন্য খাবার দিয়ে তাদের খাওয়ান।

ষাট গুম্বুজ জাদুঘর
ষাট গুম্বুজ জাদুঘর

অনেকের বিশ্বাস, কুমিররা খান জাহান আলীর অলৌকিক আশীর্বাদে মাজার রক্ষা করে চলেছে।  একটু সাবধান থাকা উচিত খাদেমরা অনেকে দর্শনাতীদের কুমিরের গা ছুয়ে দোয়া নিতে বলে টাকা দাবি করে কুমিরের খাবারের জন্য। অবশ্য সেটা কুমিরের পেটে যায় , নাকি খাদেমের কে জানে। আমি আর মিল্টন ভাই ফেঁসে গেলাম। যদিও আমি ভয়ে কুমিরের মাথায় হাত দেইনি কিন্তু মিল্টন ভাই সাহস দেখাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন । অবশেষে কিছু সময় তর্ক বির্তক করে ২০০ টাকা খাদেম ফি দিয়ে ছাড় পেলাম।

নয় গুম্বুজ মসজিদ
নয় গুম্বুজ মসজিদ

আমাদের পরের গন্তব্য পুকুরের  পিছন দিয়ে গ্রামের ভেতরের পথ হেঁটে “নয়-গুম্বুজ মসজিদে “রওনা দেওয়া। বাংলার প্রাচীন ইতিহাস আর ইসলামি স্থাপত্যের এক নিদর্শন খান জাহান আলী কতৃক নির্মিত নয় গম্বুজ মসজিদ। যেটির ছাদে আছে তিন সারিতে নয়টি গম্বুজ বর্গাকৃতির ছোট এই মসজিদে আছে মোটা ইটের দেয়াল, সুন্দর খিলান, আর মেহরাবে রয়েছে কারুকাজের নিপুণ ছাপ। এটি একসময় শুধু নামাজের স্থানই ছিল না ছিল ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজিক মিলনের কেন্দ্র। আজ এটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। মসজিদের আশেপাশে এতো গাছপালা এমন সবুজ নগরে আসলে প্রাণ জুড়ায়।

নয় গুম্বুজ মসজিদ
নয় গুম্বুজ মসজিদ
নয় গুম্ভুজ মসজিদ থেকে আরেকটু সামনে মাজার গেটের কাছে আরেকটি মসজিদ  আছে যাকে জিন্দাপীর মসজিদ  বলে। বাগেরহাট খান জাহান আলী মাজার এর পশ্চিম পাশ কিছুদূর এগিয়ে একটি রাস্তা নেমে গেছে যার পাশে এক গুম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ যা জিন্দা পীরের মাজার নামেও পরিচিত। জিন্দাপীরের মাজার ও মসজিদ একই প্রাচীর বেষ্টিত এলাকায় অবস্থিত। ঢাকার পর বাগেরহাটকে অনেকে মসজিদের নগীর বলে থাকে,কারণ এখানে অনেক পরিমান ঐতিহাসিক মসজিদ রয়েছে। ষাট গুম্বুজ পৌঁছে আশেপাশে খোঁজ করলেই সব গুলো মসজিদ দেখিয়ে দিবে।
জিন্দা পীরের মাজার মসজিদ
জিন্দা পীরের মাজার মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদের আশেপাশে আরো বেশ কয়েকটি মসজিদ আছে, ছয় গম্বুজ মসজিদ,চুনাখোলা মসজিদ,বিবি বেগানী মসজিদ, রনবিজয়পুর মসজিদ। বাগের হাট শহর বা আশেপাশে ঘুরে দেখতে পারেন।  সারাদিন কাটিয়ে বাগের হাট থেকে  পরিদিন মোংলা  যেতে পারেন কিংবা বিকালেই মোংলা গিয়ে থাকতে পারেন যেহেতু পোর্ট এরিয়া বেশ কিছু হোটেল আছে।

জিন্দা পীরের মাজার মসজিদ
জিন্দা পীরের মাজার মসজিদ

আমরা ষাট গম্বুজ থেকেই মোংলা চলে যাচ্ছি। মিল্টন ভায়ের বন্ধু ওখানে। রাতে কোয়ার্টারে আমাদের নিবাস।

মোংলা পোর্ট
মোংলা পোর্ট

বাগেরহাট থেকে মোংলার রাস্তা একটু খারাপ। প্রচুর বড় বড় গাড়ি  চলাচল করায়, ভাঙা রাস্তায় সন্ধ্যায় মোংলা পৌঁছেছি। বাগেরহাট থেকে মোংলা যেতে  রামপাল বিদুৎ কেন্দ্র,  সময় পেলে পাশ থেকে ঘুরে আসা যায়।

মোংলা পোর্ট
মোংলা পোর্ট

দুনিয়া কত ছোট আমার শহর থেকে কত দূরে এসেও পরিচিত মানুষ পাই। আদর আপ্যায়ন কয়েকদিনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। রাতে পশুর নদীর গর্জন শুনতে শুনতে প্ল্যান চলছে।  আমরা মূলত একটা সু সময়ে চলে আসছি। কাল পোর্টের একটা গ্রুপ সুন্দরবন যাবে বড় ট্রলার নিয়ে কয়েকদিন থাকবে সুন্দরবন। পোর্টের ট্রলার হওয়ায় বনের সব জায়গায় যেতে পারবো, সাথে বন্দুক ওয়ালা গার্ড আছে।  মিল্টন ভায়ের বন্ধুর কল্যানে আমরা দুজন সুযোগ পেয়ে গেলাম, দীর্ঘ দিনের আকাঙ্খা সত্যি হতে চলেছে।

বন্ধর কর্তৃপক্ষ
বন্ধর কর্তৃপক্ষ

বিশাল কিছুর সামনে আসলে আমার মন খারাপ হয়। পশুর নদী সুন্দরবনের খুবই বিখ্যাত বড় নদী। পোর্টের সব  জাহাজ পশুর নদী দিয়েই চলে। মাঝ রাতে বাসায় ফিরছি পশুর থেকে,বনে কয়েকদিন থাকার জন্য ব্যাগ গুছাইতে হবে। আমাদের ট্রলার ছাড়বে দুপুরে। এই সুযোগে ছবি না তুলার শর্তে পোর্টে ডুকার সুযোগ পেয়েছি।  আমাদের ও দরকার নাই ছবির।সব কিছু ফোনে থাকতে হবে এমন না, কিছু জিনিস মনে থাকুক। বিশাল এক কর্মযজ্ঞহের সাক্ষী হলাম। বড় বড় কার্গো,  কার্গো থেকে মালামাল লোড আনলোড।  বিশাল বড় বড় ক্রেন মালবাহী ট্রাক কত শত না দেখা যন্ত্র মনে হয় আলাদা একটা রাজ্য।

পশুর নদী
পশুর নদী

এমনিতেও পোর্টের  বাইরের অংশে সবাই ঘুরতে পারে। পোর্টের লোকজন থাকার জন্য আলাদা আবাসিক এলাকা রয়েছে। পোর্টে আসলে ঘুরে যাওয়া ভালো। সুন্দরবনের সামদ্রিক মাছ দিয়ে সকালে ভাত খেয়ে পোর্ট ঘুরে দুপুরের আগে ট্রলারে উঠছি।  হুট করে এতো বড় সুযোগ পেয়ে যাবো ভাবতেই পারিনি।

ট্রলারে

স্বপ্নের সুন্দরবন যাত্রা শুরু!  সুন্দরবন নিয়ে  আলাদা করে রোড ম্যাপ করতে হবে। সুন্দরবন আলাদা বিষয়। বাগেরহাট বিশ্ব এতিহ্য রুপ নিয়েছে। বাগেরহাট ঘুরে সুন্দরবন আলাদা ঘুরতে হবে।  পশুর নদীর বড় বড় ঢেউ ট্রলারে আছড়ে পরছে।  সবাই যার যার রুম থাকার রান্না বান্না  সব গুছগাছ করছে গেস্ট হওয়ায় আমাদের এতো চাপ নাই। ছাদে উঠে অবাক হয়ে পশুর আর মোংলার ব্যস্ততা দেখি।

ষাট গুম্বুজ মসজিদ
ষাট গুম্বুজ মসজিদ

বিশাল কিছুর সামনে আসলে আমার উদাস লাগে। পশুরের এতো গল্প শুনেছি চোখেন সামনে উত্তাল রুপ দেখে আমি অবাক হই।  আমরা এতো অহংকার দেখাই কিছুই না করে আমাদের শরীরে এতো অহংকারের শক্ত মেধের প্রাচীর জমেছে তাহলে এই পশুরের কি পরিমাণ অহংকার থাকা উচিত ছিল! প্রকৃতি আমাদের কত কি দেয় অথচ তার কোন অহংকার নেই। আমরা শুধু নিজেদের অহংকারে ডুবে আছি।  ট্রলার চলতে শুরু করেছে।  আমরা একটু একটু করে সুন্দরবন যাচ্ছি। জীবন সুন্দর প্রকৃতি মহান প্রকৃতি কারো ইচ্ছে অপুর্ণ রাখে না।

বিঃদ্রঃ ঘুরতে গিয়ে কোথাও ময়লা ফেলবেন না এবং স্থানীয়দের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।

ডিসেম্বর ২০২০

{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.singularReviewCountLabel }}
{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.pluralReviewCountLabel }}
{{ options.labels.newReviewButton }}
{{ userData.canReview.message }}

Hi, I'm Saiful Islam

Welcome to my world of exploration! I’m a passionate travel blogger from Bangladesh, dedicated to showcasing the incredible beauty and rich culture of my homeland.

Find us on Facebook