একজন কিংবদন্তি

Rafa Noman
গ্রামের প্রথম টেলিভিশন আব্বা আনছেন।
প্রতি বৃহঃপতি ও শুক্রবার  বিকেলে আমাদের বাড়িতে বাংলা সিনেমা দেখার মেলা বসতো,ছেলে বুড়ো সবাই আসতো সিনেমা দেখতে।
সিনেমায় ভিলেন এর সাথে নায়কের মারামারিতে ভিলেন সবসময় মারা যায় এই দেখে আমার খুব দুঃখ হতো।মারামারি দেখে ভয়ে কান্না করে রান্না ঘরে গিয়ে বসে থাকতাম। আম্মা গিয়ে বুঝিয়ে আনতো আর বলতো ” এটা সিনেমা, সত্যি না”
৯০ এর দশকে নিজ থেকে এইসব গল্প বুঝা সহজ ছিল না আমার জন্য। আব্বা তার প্রিয় অভিনেতাদের নিয়া কথা বলতেন মাঝে মাঝে। আব্বার সাথে তখন সিনেমার গল্প আর অভিনেতাদের অভিনয় নিয়ে গল্প হতো।তখন আব্বা আমাকে গল্প বুঝাতেন। ২০১২ দিকে এসে আমি আব্বাকে  হিন্দি সিনেমার গল্প বলে দিতাম, আহারে আমাদের কি দিন চলে গেলো।দিন গেলো তো গেলো সাথে আব্বাকেও নিয়ে গেল।
আব্বার গল্পের সেই অভিনেতাদের একজন হুমায়ূন ফরীদি। উনার গল্প শুনতাম মাঝে মাঝে।
একটা কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানে আব্বার সাথে হুমায়ূন ফরীদির দেখা হয় কথা হয়।
আব্বা তখন আবৃত্তি করতেন,আহারে কি দরাজ কন্ঠ ছিল আব্বার! আব্বার মুখে বিদ্রোহী কবিতা শুনে হুমায়ূন ফরীদি মুগ্ধ হয়েছিলেন।এইসব গল্প শুনে আমিও হুমায়ূন ফরীদির অভিনয়ে মুগ্ধ।যত বড় হচ্ছি ততই মুগ্ধতা বাড়ছে।
এই মুগ্ধতার মাঝেই হুট করে একদিন বিকালে খবরে দেখলাম উনি আর নেই!আহারে কি আফসোস আব্বার! উনি মারা যাবার পর থেকে উনার অভিনয় দেখে আরো মুগ্ধ হতে থাকলাম।
একজন মানুষ কতটা গুণী হতে পারে!  তা উনাকে দেখলে বুঝা যায়।সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের  “উত্তারধীকার” কবিতাটা মনে হয় উনি আবৃত্তি করার জন্যই লিখেছিলেন। একাধারে শিল্পী,  কবি, অভিনেতা,  নাট্যশিল্পী,  আবৃত্তিকার এবং মুক্তিযোদ্ধা আরো কতশত নাম দেয়া যায় লোকটার।
২০১২ সালের ১৩ ই ফেব্রুয়ারী ফাগুনের প্রথম দিনে  ফাগুনের রঙে বিষাদ  ছড়িয়ে আমাদের ছেড়ে চলে যান আমাদের প্রিয় অভিনেতা। তার প্রয়াণ দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো।
{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.singularReviewCountLabel }}
{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.pluralReviewCountLabel }}
{{ options.labels.newReviewButton }}
{{ userData.canReview.message }}

Hi, I'm Saiful Islam

Welcome to my world of exploration! I’m a passionate travel blogger from Bangladesh, dedicated to showcasing the incredible beauty and rich culture of my homeland.

Find us on Facebook